শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে উপজেলা মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। নির্ধারিত মেয়াদকাল পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ। বর্তমানে নির্মাণ কাজ পুরোপুরি বন্ধ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
এলাকাবাসী, মসজিদ ভিক্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অথার্য়নে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এসব মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় উপজেলার কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় প্রায় ৪০ শতক জমিতে এ মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালে ২২ অক্টোবর এ মসজিদের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ্ব এ্যাড. আ ক ম মোজাম্মেল হক (এমপি)। প্রায় ১৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ নির্মাণ কাজটি পান রফিক কনষ্ট্রাকশন কোম্পানী (প্রাঃ) লিমিটেড নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ডোবা ভরাট করে চলছিল নির্মাণকাজ। ওই কাজের মেয়াদকাল ১৬ মাস পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নানা অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে মসজিদের কিছু অংশে ঢালাই দিয়ে পিলার তৈরি করা হয়েছে। নানা অজুহাতে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজ বন্ধ থাকায় বৃষ্টিতে ভিজে শর্ট পিলারের ওপরের অংশে রডগুলোতে মরিচাও পড়ে গেছে। কাজ বন্ধ থাকার সুযোগে একটি চক্র ওই মসজিদের আশপাশের জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট করেছে। এদিকে অযত্নে-অবহেলায় রয়েছে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্থরের ফলকটিও। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় লোকজন। তবে অতিদ্রুত কাজটি শেষ করে উপজেলাবাসীকে সুন্দর এ মডেল মসজিদ উপহার দেওয়া দাবি তাদের।
অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন বলেন, যেখানে মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে ডোবা ছিল। এছাড়া ল্যান্ড ডেভলমেন্ট, ফ্লোরের স্থলে ডেক্সলাভ করা, বষার্, করোনাসহ বিভিন্ন কারণে নির্মাণ কাজের গতি ছিল না। সরকারী ডিপিপি’র মেয়াদও শেষ। এসব কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। তবে ডিপিপি’র মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, সে চিঠি পিডি অফিসে আছে। আগামী জানুয়ারী মাসে কাজ শুরু করা হবে। উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিদর্শক আবু জাফর আল ফারুকি জানান, ডিপিপি’র মেয়াদ শেষ হলেও সেটা আবার বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি টাকার অভাবসহ নানা অজুহাতে দুই সপ্তাহ ধরে নির্মাণ কাজটি বন্ধ করে রেখেছে। তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা পি.ডব্লিউ.ডি গাজীপুর ডিভিশনের সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, এ কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিল উঠাতে পারেনি বলেই কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে মড়চে ধরা রড গসে ঠিক করে খুব তাড়াতাড়ি আবার কাজ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, গণপূর্ত বিভাগ ওই মডেল মসজিদের কাজটি দেখছে। আর অনিয়মের বিষয়টি আমি তোলে ধরেছি। আশা করি আমরা একটা সমাধানে পৌছাবো। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা করে কাজটি দ্রুত করার জন্য বলা হবে।